Post Top Ad
Tuesday, June 9, 2020
অবশেষে বেসরকারি শিক্ষকদের চাকরির ১০ বছর হলেই উচ্চতর গ্রেড !
বেসরকারি শিক্ষকদের চাকরির ১০ বছর হলেই উচ্চতর গ্রেড
অবশেষে বেসরকারি স্কুল-কলেজ ও মাদরাসার শিক্ষকদের টাইম স্কেলের বদলে উচ্চতর গ্রেড দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। চাকরির ১০ বছর পূরণ হলে উচ্চতর গ্রেডের বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়ার জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরকে রোববার নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ নভেম্বর অনুষ্ঠিত এমপিও কমিটির সভায় উচ্চতর গ্রেডের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছিল। এরপর বলা হয় মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা পেলেই মাঠ পর্যায় থেকে টাইমস্কেলের বদলে বেসরকারি স্কুল-কলেজ শিক্ষক-কর্মচারীদের উচ্চতর গ্রেডের আবেদন গ্রহণ শুরু হবে। দীর্ঘদিন আটকে থাকার পর গত ৩১ মে বিষয়টি স্পষ্ট করে একটি চিঠি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।
রোববার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের (৭ জুন) মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোমিনুর রশিদ আমিন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকদের উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তির বিষয়টি আটকে ছিল। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের উচ্চতর স্কেল প্রদানের বিষয়ে অর্থ বিভাগের স্মারকে স্পষ্টীকরণসহ মতামত প্রদান করা হয়েছে এবং অর্থ মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, চাকরির ১০ বছর পূর্তিতে শিক্ষকরা একটি উচ্চতর গ্রেড পাবেন। তবে, ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড পাবেন কিনা বা দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেড শিক্ষকরা কবে পাবেন তা আদালত নির্ধারণ করবেন।
উল্লেখ্য, এমপিও বিধিমালায় টাইম স্কেলের পরিবর্তে উচ্চতর বেতন স্কেলের কথা বলা হয়েছে। ২০১৫ সালের যে পে-স্কেল সেই পে-স্কেলেই টাইম স্কেল বাদ দেয়া হয়েছে। ২০১৮ সালের যে এমপিও বিধিমালা, সেখানে উচ্চতর বেতন স্কেল হিসেবেই এটা ধরা আছে। টাইম স্কেলের নিয়মেই ‘উচ্চতর গ্রেড’পাবেন শিক্ষক-কর্মচারীরা।
বেসরকারি শিক্ষকদের উচ্চতর গ্রেডের চিঠি নিয়ে নানা কথা
১৯৯৪ খ্রিষ্টাব্দের ১ জুলাই থেকে বেসরকারি শিক্ষকরা টাইম স্কেল পেয়ে আসছেন। তখন এক পরিপত্রে বলা হয়, শুধুমাত্র ২০ থেকে ১০ম গ্রেডের শিক্ষক-কর্মচারীরা চাকরির বয়স ৮ বছর পূর্তিতে একটি টাইম স্কেল পাবেন অর্থাৎ পরবর্তী স্কেল প্রাপ্য হবেন। সেই থেকে টাইম স্কেল পেয়ে আসছেন শিক্ষক-কর্মচারীরা। তবে ৯ম গ্রেডের প্রভাষকরা চাকরির ৪ বছর পূর্তিতে ৭ম গ্রেডে বেতন পেতেন বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের প্রভাষকদের মতো।
২০১৫ খ্রিষ্টাব্দে ৮ম পে স্কেল প্রণয়ন করে টাইম স্কেল বন্ধ করে উচ্চতর গ্রেডের প্রচলন করা হয়। ১০ বছরে একটি ও পরবর্তী ৬ বছরে আরও ১টি অর্থাৎ ২টি উচ্চতর গ্রেড। আজ ৫ বছর পর প্রতীক্ষিত উচ্চতর গ্রেডের নিষ্পত্তি ও স্পষ্টীকরণের চিঠি পাঠানো হয়। ১০ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড এখন থেকে পাবেন।
প্রশ্ন হলো কারা এই গ্রেড পাবেন। আগে টাইম স্কেল যারা পেতেন তারা তো পাবেনই; আর যেহেতু নতুন সংস্করণ উচ্চতর গ্রেড তাই প্রতিষ্ঠান প্রধান থেকে শুরু করে সবাই পাবেন, আমি মনে করি। ১ম এমপিওর তারিখ থেকে ১০ বছর হলেই এই উচ্চতর গ্রেড পাবেন সবাই।
সহকারী প্রধান শিক্ষকদের ৮ম গ্রেডে বেতন দেয়া হয়। আমি যতদূর জানি, ৮ম গ্রেড করা হয়েছে পদ-পদবী-স্কেল সমন্বয় করার জন্য বা সান্তনার জন্য। ৮ম ও ৯ম গ্রেডের পার্থক্য মাত্র ১০০০ টাকা। এজন্যই প্রভাষকদের ৯ম থেকে ৭ম গ্রেডে উন্নীত করা হয়। তাই সহকারী প্রধান শিক্ষকদের ৭ম গ্রেডে বেতন পাওয়ার কথা। তাছাড়া প্রধান শিক্ষকরা ৭ম গ্রেডে বেতন পান। অন্যদিকে, প্রধান শিক্ষকরা ৭ম গ্রেডে বেতন পান। সরকারি স্কুলের প্রধান শিক্ষকরা ৬ষ্ঠ গ্রেডে বেতন পান।
১৯৯২ খ্রিষ্টাব্দে সরকারি প্রধান শিক্ষকের গ্রেড ৭ম থেকে ৬ষ্ঠতে উন্নীত হয়, বেসরকারি প্রধান শিক্ষকের ৭ম- এ থেকে যায় এবং এখান থেকেই তাদর মধ্যে বৈষম্য শুরু হয়। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক মাদরাসা সুপারদের বেতন গ্রেড থেমে আছে একই জায়গায়। উচ্চতর গ্রেড, সিলেকশন গ্রেড যে নামেই হোক পরবর্তী গ্রেডে উন্নীত করে তাদের গ্রেড বৈষম্য দূর করতে হবে।
অনেকেই শঙ্কায় আছেন কবে থেকে পাবেন এই কাঙ্ক্ষিত গ্রেড। আমি মনে করি, যেদিন ১০ বছর পূর্ণ হয়েছে সেদিন থেকেই দিতে হবে। কারণ, প্রশাসনিক জটিলতায় এতদিন আটকে ছিল, এর দায় শিক্ষকরা বহন করবেন না। অনেকে ১১তম গ্রেডে চাকরি করার পর বিএড করেছেন এবং ১০ম গ্রেড পেয়েছেন। এখন কোন তারিখ থেকে হিসেব করা হবে? সরকারি শিক্ষকদের বিএড- ননবিএড একই গ্রেড। এখানেও তা-ই হওয়া উচিত এবং চাকরির বয়স প্রথম থেকেই ধরতে হবে।
প্রভাষকরা যারা ৯ম গ্রেডে আছেন তাদের উচ্চতর গ্রেড পেয়ে ৭ম গ্রেডে যাওয়া উচিত বলে আমি মনে করি। কারণ, ৮ম গ্রেড একটি অস্বাভাবিক ও বিভ্রান্তিমূলক গ্রেড। তাছাড়া ৫:২ এর ফাঁদে পড়ে যারা সহকারী অধ্যাপক হতে পারেননি, বঞ্চিত হচ্ছেন তাদের প্রাপ্য থেকে, তাদের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখতে হবে। যে যুক্তিই হোক না কেন এ অমানবিক অনুপাত প্রথা বাতিল করতে হবে।
সরকারের অর্থনৈতিক সক্ষমতা আছে শিক্ষাক্ষেত্রে ব্যয় করার। তবে শিক্ষায় ব্যয় বলব না- এ ব্যয় বিনিয়োগ হিসেবে মনে করতে হবে। অনেকে ধারণা করছেন উচ্চতর গ্রেডের সাথে ইনক্রিমেন্ট থাকবে কি না। বর্তমান ইনক্রিমেন্ট আর আগের ইনক্রিমেন্ট এক নয়। এই ইনক্রিমেন্ট বেতন স্কেলের সম্পূরক। এটা বাদ দেয়া যাবে না। আরও অনেক প্রশ্নের উদ্ভব হতে পারে। তবে স্থায়ী সমাধান হলো শিক্ষাব্যবস্থা সরকারিকরণ।
পরিশেষে উপর্যুক্ত বিষয়গুলো সুষ্ঠুভাবে সমাধান ও বাস্তবায়ন করতে প্রয়োজন একটি শক্তিশালী কমিটি, আর সেখানে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে বেসরকারি শিক্ষকদের।
লেখক : অধ্যক্ষ আবুল বাশার হাওলাদার, সভাপতি, বাংলাদেশ শিক্ষক ইউনিয়ন।

