বিসিএস লিখিত: বুকলিস্ট ও যেভাবে শুরু করবেন প্রস্তুতি | BCS Preparation - BD Jobs Aid

Post Top Ad

Friday, December 13, 2019

বিসিএস লিখিত: বুকলিস্ট ও যেভাবে শুরু করবেন প্রস্তুতি | BCS Preparation

বিসিএসে লিখিত পরীক্ষাই অনেকাংশে ক্যাডার নির্ধারণ করে দেয়। তাই লিখিত পরীক্ষায় ভাল করতে পারলে ক্যাডার হওয়ার দৌড়ে আপনি অন্য প্রার্থীদের চেয়ে অনেকাংশে এগিয়ে যাবেন। এখানে সিলেবাস যেহেতু বিশাল, তাই নিয়মমাফিক পরিশ্রমের পাশাপাশি কৌশলীও হওয়া প্রয়োজন। অনেকেই আছেন যাদের লিখিতের সিলেবাস বুঝতে বুঝতেই কয়েক মাস চলে যায়।

বিসিএস লিখিত: বুকলিস্ট ও যেভাবে শুরু করবেন প্রস্তুতি BCS Preparation 

আমি এ লেখায় প্রতিটি বিষয়ের বুকলিস্ট সহ সংক্ষিপ্ত ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। আমার এ লেখা থেকে কেউ যদি সামান্যতমও উপকৃত হয় তবে আমি আমার এ প্রচেষ্টাকে সার্থক বলে মনে করব।

ইংরেজি
যেকোন চাকরির পরীক্ষায় অধিকাংশ প্রার্থী ইংরেজি নিয়ে শঙ্কায় থাকে। অথচ ইংরেজিতে ভাল করতে পারলে চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা অনেকাংশে বেড়ে যায়। তাই সব শঙ্কা দূরে ঠেলে ইংরেজি পরীক্ষায় ভাল করার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করুন।
বিসিএসে ইংরেজি ১ম পত্রে ১০০ মার্কস বরাদ্দ থাকে কম্প্রিহেনসনের জন্য। কম্প্রিহেনসন প্র্যাকটিসের জন্য এইচএসসির টেক্সটবুকটি অনুসরণ করতে পারেন; আর গ্রামার প্রিলিমিনারির জন্য যা পড়েছেন তাই বেশি বেশি চর্চা করলেই হবে। আর যারা গ্রামার চর্চার জন্য ভাল বই খুঁজছেন তারা জাকির স্যারের এ প্যাসেজ টু দ্য ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ বইটি পড়তে পারেন। সামারি বাসায় বসে প্র্যাকটিস করতে পারেন আর লেটারস টু দ্য এডিটর লেখার জন্য ভাল মানের গাইড থেকে নির্দিষ্ট ফরম্যাট দেখে যান, যেহেতু প্যাসেজ সংক্রান্ত বিষয়ই এখানে লিখতে হয় তাই স্ট্র্যাকচার ঠিক থাকলে বাকিটুকু আপনি বানিয়েই লিখতে পারবেন।

দ্বিতীয়পত্রে রচনার জন্য ৫০ ও অনুবাদের জন্য ৫০ মোট এই ১০০ নম্বর বরাদ্দ থাকে। রচনা সাধারনত সমসাময়িক বিষয়গুলো থেকে এসে থাকে। তাই সমসাময়িক বিষয়ে যত পারুন তথ্য সংগ্রহ করুন। রচনার জন্য সেলফ এসেসমেন্ট বইটি ফলো করতে পারেন। বইটিতে সুন্দরভাবে গুছিয়ে অনেকগুলো রচনা দেয়া আছে যা আপনার প্রস্তুতিতে কাজে লাগবে।আর হা বাসায় বসে প্রতিদিন ৪০/৪৫ মিনিট ফ্রি হ্যান্ড চর্চা করুন। এটি আপনার লেখার গতি ও কোয়ালিটি দুটোই বাড়িয়ে দিবে। অনুবাদ চর্চার জন্য সাইফুরসের ট্রান্সলেশন এন্ড রাইটিং বইটি ফলো করতে পারেন। আর প্রতিদিন প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার পত্রিকার সম্পাদকীয় অংশ থেকে অনুবাদ চর্চার অভ্যাস গড়ে তুলুন। অনুবাদের ক্ষেত্রে ভাবানুবাদের উপর জোর দিন। প্র্যাকটিস করতে গিয়ে ভুল কিংবা শুদ্ধ হোক থেমে না গিয়ে অভ্যাস চালিয়ে যেতে পারলে পরীক্ষার সময় দেখবেন ঠিকই পেরে যাবেন।

বাংলা
বাংলা ১ম পত্রে লিখিতের জন্য বাংলা ব্যাকরণ ও সাহিত্য প্রিলিমিনারিতেই অনেকাংশে পড়ে ফেলেছেন।বাড়তি যেটুকু পড়া হয়নি তা প্রফেসরস/অ্যাসিউরেন্স গাইড থেকে পড়তে পারেন। দুটো বইয়েই ব্যাকরণ ও সাহিত্য অংশ সুন্দরভাবে দেয়া আছে। ভাবসম্প্রসারণ ও সারমর্ম সারাজীবন পড়ে এসেছেন তাই এ নিয়ে বাড়তি চিন্তার কোন কারন নেই। প্রফেসরস/অ্যাসিউরেন্স থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভাবসম্প্রসারণ ও সারমর্মগুলো পড়ে নিন।

দ্বিতীয়পত্রে আপনাকে সময়ের আগে চলতে হবে কারন এখানে মার্কস ১০০ হলেও লিখতে হবে প্রথম পত্রের চেয়ে অনেক বেশি।
-এখানে গ্রন্থ সমালোচনার জন্য মোহসিনা নাজিলার শীকর বইটি ফলো করতে পারেন।
-অনুবাদের প্রস্তুতি ইংরেজিতেই হয়ে যাবে।
-প্রফেসরস গাইডে বিভিন্ন ধরনের পত্রের ফরম্যাট দেয়া আছে। ওইগুলো দেখে রাখুন।
-আর কাল্পনিক সংলাপ একই গাইড থেকে চর্চা করতে পারেন।
-বাংলা রচনার জন্য ৪০ নম্বর বরাদ্দ থাকে। বাংলাদেশ বিষয়াবলির সাথে মিলিয়ে রচনা পড়তে পারেন। যেহেতু সাম্প্রতিক বিষয় থেকে রচনা এসে থাকে তাই এ সংক্রান্ত তথ্যের সাথে সবসময় আপডেট থাকুন।

বাংলাদেশ বিষয়াবলি
বাংলাদেশ বিষয়াবলিতে মার্কস থাকে ২০০। এ বিষয়ে লিখতে হয় প্রচুর কিন্তু সময় বরাদ্দ থাকে কম। তাই কম সময়ে দ্রুত লেখার অভ্যাস গড়ে তুলুন। ডাটা,উদ্ধৃতির জন্য আলাদা হ্যান্ডনোট ফলো করতে পারেন। যেখানে সুযোগ পাবেন সেখানেই এগুলো ব্যবহার করবেন। ডাটা উদ্ধৃতি দিতে পারলে মার্কস বেড়ে যাবে। বাংলাদেশ বিষয়াবলীর জন্য নিম্নোক্ত বইগুলো পড়তে পারেন-
-প্রফেসরস
-অ্যাসিউরেন্স
-স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস-রাখী বর্মণ
-উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ২য় পত্র-মোজাম্মেল হক
-বাংলাদেশের সংবিধান
-অর্থনৈতিক সমীক্ষা(সর্বশেষ)

আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি
আন্তর্জাতিক বিষয়াবলীতে সংক্ষিপ্ত প্রশ্নের জন্য ৪০ ও বড় প্রশ্নের জন্য ৬০ মার্কস বরাদ্দ থাকে। এ বিষয়ের প্রস্তুতির জন্য অ্যাসিরেন্স সিরিজের গাইড ও আব্দুল হাই এর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক,সংগঠন ও পররাষ্ট্রনীতি বই দুটো পড়তে পারেন। দৈনিক পত্রিকার আন্তর্জাতিক বিষয়ক পাতা ও এ সংক্রান্ত সম্পাদকীয় প্রতিদিন পড়ার অভ্যাস করতে পারলে লিখিত পরীক্ষার জন্য অনেক কাজে দিবে।

গনিত ও মানসিক দক্ষতা
ক্যাডার প্রাপ্তিতে গনিত ও মানসিক দক্ষতার ১০০ নম্বর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গনিতে ভাল করার জন্য প্রফেসরস গাইডের পাশাপাশি ৭ম-নবম শ্রেণির গনিত বই ও সিলেবাসের সাথে মিলিয়ে উচ্চতর গনিত অনুশীলন করতে পারেন। আর মানসিক দক্ষতা প্রিলির জন্য যা পড়েছেন তা রিটেনের জন্যও যথেষ্ট, লিখিতর জন্য এ বিষয়ে আর বাড়তি কিছু পড়ার প্রয়োজন দেখছি না।

দৈনন্দিন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
বিজ্ঞানে বরাদ্দকৃত সময়ে ১০০ মার্কসের উত্তর করে আসতে পারাটা একটু কঠিন বটে তবে অসম্ভব নয়। বিজ্ঞানের জন্য মানবিক বিভাগের নবম-দশম শ্রেনির বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির মাহবুবুর রহমানের লেখা তথ্য প্রযুক্তি ও কম্পিউটার বই ও ওরাকল সিরিজের বইটি পড়তে পারেন। বিজ্ঞান বিষয়ে বেসিক বৃদ্ধির উপর বেশি জোর দিন। খুব বেশি দরকার না হলে পরীক্ষার খাতায় চিত্র দেয়ার দরকার নেই। নিয়মিত প্রস্তুতি নিতে থাকলে বিজ্ঞানে অবশ্যই ভাল করা সম্ভব।

পরিশেষে বলতে চাই কালবিলম্ব না করে লিখিত পরীক্ষার জন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি নেয়া শুরু করুন। লিখিত পরীক্ষায় ভাল নম্বর অর্জন করতে পারলে চূড়ান্ত রেজাল্টে আপনার সাফল্যের হার অনেকাংশে বেড়ে যাবে। ভুল ত্রুটি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ রইলো। সবাই ভাল থাকবেন। আল্লাহ হাফেজ।

লেখক: দিদার নূর এএসপি, ৩৭তম বিসিএস, মেধাক্রম-৮

Post Top Ad